রোজায় জীবনযাপন হবে যেমন

রোজায় জীবনযাপন হবে যেমন

দেখতে দেখতে কয়েকটি রোজা শেষ। অন্যান্যবার থেকে এবারের রোজা আমরা বিশেষ সময়ের মধ্যে পার করছি। চলছে করোনার দুর্যোগ। স্বাভাবিক জীবনযাপনে তাই মেনে চলতে হচ্ছে নানা বিধিনিষেধ। ঘরের ভেতর কাটাতে হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত জীবন। এ রোজায় দুটি বিষয়কে আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হচ্ছে। প্রথমটি হলো করোনাভাইরাস। এর কারণে সারাক্ষণ বাসায় থাকতে হচ্ছে এবং আমাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এ কারণে শরীরের যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, সেটিও ব্যাহত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, এখন গরমের সময়। এ সময় প্রায় ১৫ ঘণ্টার মতো রোজা রাখতে হচ্ছে। গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে শরীরের বিশেষ পরিবর্তন ঘটতে পারে। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। করোনাভাইরাসের কারণে আমরা মানসিকভাবে সারাক্ষণ একধরনের নেতিবাচক চিন্তার মধ্যে আছি। নেতিবাচক চিন্তার কারণে আমাদের দেহে কর্টিসল নামক একধরনের স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন নিঃসরণের ফল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। কাজেই এবারের রোজায় চাই বিশেষ খাবার, যা সবদিক দিয়ে আমাদের সুরক্ষা দেবে।

স্ট্রেস হরমোনের লেভেল কমানোর উপায়: সঠিক সময়ে ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের ভেতরে হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। হালকা ব্যায়াম শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে। ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি অন্যান্য পরিস্থিতির মতোই আমাদের জীবনে এসেছে, এটা মেনে নিতে হবে। মানসিক প্রশান্তি তৈরি হয়, এমন কাজ করতে পারেন।

এ জন্য যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করতে পারেন, বই পড়তে পারেন, ধর্মীয় নিয়মনীতি পালন করতে পারেন। সব ধরনের নেতিবাচক চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। প্রয়োজনে টিভিতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ইন্টারনেটে, পেপার-পত্রিকায় নেতিবাচক খবর এড়িয়ে চলুন।

এবারের রোজা এসেছে গরমকালে। এ সময় শরীর এমনিতেই পানিশূন্য হয়ে যায়। কাজেই আমাদের প্রথম কাজ হবে, শরীর যাতে পানিশূন্য না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা। এ জন্য ইফতারির পর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে এবং সাহ্‌রি পর্যন্ত যত বেশি পারা যায় পানি পান করতে হবে। মানসিক ও শারীরিক—এ দুইয়ের সুস্থতার জন্য এ সময় খাবারও হতে হবে বিশেষ।

ইফতারির সময়কার খাবার: ছোলা, দই, চিড়া, দইবড়া, কাবলি ছোলা, রায়তা, শসা, যেকোনো মৌসুমি ফল, খেজুর, হালিম, রুটি, ছাতু–দুধ, ওটস–দুধ, ওটস–খিচুড়ি, সেদ্ধ ডিম খাওয়া যেতে পারে। এই খাবারগুলো আপনার শরীরে প্রচুর শক্তি জোগাবে। ইচ্ছা হলে নরম খিচুড়ি, ভাত, মাছের পাতলা ঝোল তরকারি খেতে পারেন। এগুলো আমাদের স্বাভাবিক খাবার, আমাদের শরীর এসব খাবারে অভ্যস্ত।

ইফতারে শরবত–জাতীয় খাবার বেশি রাখুন। লেবু, ডাবের পানি, বেল, আনারস, তরমুজ, বাঙ্গি, গাজর, মালটা, কাঁচা আম, লাচ্ছি, ইসবগুল, তোকমার শরবত পান করতে পারেন স্বাদ অনুসারে।

ইফতার থেকে সাহ্‌রির সময়টা খুব বেশি নয়। তাই রাতের খাবারটা পরিমিত হালকা হওয়া ভালো। অতিরিক্ত তেলে ভাজা কিংবা ডিপ ফ্রায়েড, চর্বিযুক্ত খাবার এ সময় না খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ভেজিটেবল স্যুপ, চিকেন স্যুপ, নরম খিচুড়ি, ভর্তা, ভাত, রুটি, মাছের পাতলা ঝোল তরকারি, মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল তরকারি, ছাতু–দুধ, ওটস–দুধ, ওটস–খিচুড়ি, পাতলা দুধ–সুজি, দুধ–সাগু খেতে পারেন রাতের খাবার হিসেবে। এ খাবারগুলো একই সঙ্গে শরীরে শক্তি জোগাবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে গাজর কুচি করে কেটে নিন। তারপর গাজরকুচি, দুধ ও পানি দিয়ে এক সঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিয়ে পরিবেশন করতে হবে। তবে কেউ মিষ্টি করতে চাইলে এর মধ্যে খেজুর ও কিশমিশ নিয়ে ব্লেন্ড করতে পারেন।
লেখক: পুষ্টিবিদ, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য

Leave a Reply