তামিমের ১ ঘন্টাই যথেষ্ট

তামিমের ১ ঘন্টাই যথেষ্ট

‘অবসর’ না বলে অপ্রত্যাশিত অবসর বলা ভালো। যতই সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটানো যাক, খেলা বাদ দিয়ে এমন অবসর চেয়েছিলেন কোন খেলোয়াড়! তারওপর ‘অবসরে’র মধ্যেই সার্বক্ষনিক করোনাভাইরাস আতঙ্ক। আজ কত মানুষ আক্রান্ত হলো, কতজন মারা গেল – ক্রমবর্ধমান এসব সংখ্যা তৈরি করছে মানসিক চাপ। এই চাপের অংশটুকু বাদ দিলে করোনার অপ্রত্যাশিত অবসরে ভালোই আছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। প্রথম কয়েকদিন একটু অন্যরকম লাগলেও এখন বাচ্চাদের সঙ্গে খেলে আর এক ঘন্টা ফিটনেসের কাজ করে দিব্যি পার করে দিচ্ছেন দিনগুলো।

প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজ তামিম বলছিলেন, ‘রোজার আগের কথাটাই বলি, সকালে ঘুম থেকে উঠে বাচ্চাদের সঙ্গে একটু খেলে এক ঘন্টা রানিং আর ফিটনেসের কাজ করতাম। এরপর আবার বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা এবং টিভি-মুভি দেখা। এ ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নেই। কীভাবে কীভাবে যেন দিন কেটে যাচ্ছে। কিন্তু খেলা নেই, অনুশীলন নেই। বাসায় ট্রেডমিলে মাত্র এক ঘন্টার দৌড়াদৌড়িতে কতটুকুই আর কাজ হবে একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের! কিছু ঘাটতি তো থেকেই যায়। না, তামিম এ কথার সঙ্গে একদমই একমত নন, ‘কাজগুলো যদি ভালোভাবে করি, আমার মনে হয় এক ঘন্টা যথেষ্ট।

তবে হ্যাঁ, যদি আমার কাছে অনেক ধরনের সরঞ্জাম থাকতো, বা বাসায় জিমের মতো থাকতো, তাহলে হয়তো আরও কিছু কাজ করতে পারতাম। সৌভাগ্যবশত আমার বাসায় একটি ট্রেডমিল আছে, আর ওজন নেওয়ার কিছু সরঞ্জাম আছে। ফিটনেসের জন্য জিম করাটা অবশ্য আগে থেকেই পছন্দ নয় তামিমের। তাঁর পছন্দ দৌড়ানো, ‘সত্যি বলতে কি, আমি জিম করা খুব একটা পছন্দ করি না। দৌড়ানোটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শরীর যদি ভালো দৌড়ানোর মতো অবস্থায় থাকে, তাহলেই ধরে নেই আমি যথেষ্ট ফিট।

অন্যদের ক্ষেত্রে অন্যরকম হতে পারে। তবে আমার জিমের প্রতি আগ্রহ কম।’করোনা আক্রান্ত সময়ে আর একটা কাজ করছেন তামিম, যেটা এর মধ্যেই সবাই জানেন। নিজের সাধ্যমতো আর্থিক সাহায্য করে যাচ্ছেন অসহায় মানুষদের। সর্বশেষ দেশের বিভিন্ন খেলার ৯১ জন খেলোয়াড়কে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন বিকাশ করে। আকস্মিক এমন সহায়তা পেয়ে অনেক খেলোয়াড়ই আনন্দে কেঁদেছেন। অনেকে হয়েছেন বাকরুদ্ধ।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের মতো তামিমও পাশে দাঁড়াচ্ছিলেন বিপন্ন মানুষের। তবে সেটি ছিল অন্যদের মাধ্যমে। হঠাৎ করে তাঁর এরকম ৯১ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়ার কারণ কি? প্রসঙ্গটি এর আগে এড়িয়ে গেলেও আজ সাক্ষাৎকারে তামিম জানিয়েছেন এমন কাজের পেছনের কারণ। কিছুদিন আগে তামিম জানতে পারেন, একজন সম্ভ্রান্ত ভদ্রমহিলা তাঁর সন্তানদের নিয়ে খুব আর্থিক সমস্যার মধ্যে আছেন। ভদ্রমহিলার দুই সন্তান, স্বামী নেই।

তাঁর আয় বলতে ছিল কিছু বাসাভাড়া। কিন্তু লকডাউনের কারণে ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ারা সব বাসা ছেড়ে যার যার বাড়ি চলে যাওয়ায় সে আয় বন্ধ হয়ে গেছে। আত্মসম্মানের কারণে ভদ্রমহিলা কারও কাছে সাহায্যও চাইতে পারছিলেন না। প্রথম আলোকে তামিম বলছিলেন, ‘সব শুনে আমি ওনাকে কিছু সাহায্য করি। তখনই মাথায় এলো, আমাদের আশেপাশে এরকমও তো অনেক মানুষ আছেন, যারা এখন আর্থিক কষ্টে থাকলেও আত্মসম্মান বা লজ্জার কারণে ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে পারছেন না। খেলোয়াড়দের মধ্যেও এরকম থাকতে পারেন। এ চিন্তা থেকেই আসলে কিছু করার চেষ্টা করেছি।’

Leave a Reply