ঘরে থেকে ত্বকের যত্ন

ঘরে থেকে ত্বকের যত্ন

প্রকৃতিতে এখন গ্রীষ্মকাল। করোনাভাইরাসের কারণে ঘরেই কাটছে সময়। এ সময়ে ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতে হাতের কাছে থাকা উপকরণই যথেষ্ট। ঠিকঠাক যত্ন নিতে পারলে ত্বক থাকবে সতেজ। আতঙ্কের এই সময়ে মনটাও ভালো থাকবে। সময়টা অন্য রকম। একদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গৃহবন্দী জীবন।

আর এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে পবিত্র রমজান মাস। সঙ্গে আছে গ্রীষ্মের উত্তাপ, কখনো আবার হঠাৎ কালো হয়ে আসা আকাশ—বৃষ্টি আর কালবৈশাখী। মনের আকাশেও মেঘ জমে সংকটকালীন চিন্তার চাপে। নানাবিধ পরিবর্তন জীবনধারায়। গৃহবন্দী সময়ে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় সব উপকরণ হাতের কাছে সব সময় না-ও থাকতে পারে। রূপচর্চাতে তাই বেছে নিতে পারেন সহজলভ্য উপকরণ। ঘরে বসে এই ত্বকের যত্ন নিলে ত্বক তো বটেই, মনটাও ভালো থাকবে। করোনাকালে যা জরুরি।

হাতের কাছে উপকরণের কথা বলি এবার। এই যেমন শসা কেটে চোখের ওপরে রাখলে চোখের নিচের কালো দাগ কমে আসবে, আবার আরামও পাবেন। এটা বলছি, কারণ রাতের ঘুম কমে গেছে অনেকেরই। ত্বককে শীতল রাখতে আর ত্বকের স্নিগ্ধতা ধরে রাখতে এক ভাগ লেবুর রস, এক ভাগ গোলাপজল এবং চার ভাগ ঠান্ডা পানি নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে ছোট স্প্রে বোতলে রাখুন। প্রয়োজনমতো মুখে স্প্রে করুন। রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি জানালেন এমনটাই।

শারমিন কচি বলেন, ‘বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না বলে ত্বকের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন নেই, এমন ভাবনা ভুল। ঘরে থাকা হলেও নিয়মিত যত্নের অভাবে ত্বকে নানাবিধ সমস্যা হতে পারে। তবে খুব বেশি কিছু করার দরকার নেই। সাধারণ ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারেই ত্বককে সুস্থ রাখা সম্ভব।’

টোনার হিসেবে ভিনেগার বা সিরকা দারুণ। ২ কাপ পানিতে ১ টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাপড়ের সাহায্যে এটি দিয়ে মুখের ত্বক পরিষ্কার করুন। শুকিয়ে এলে পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন দিন করা যাবে।

ফেসমাস্ক ব্যবহার করতে পারেন সপ্তাহে ১-২ দিন। প্রতিটি প্যাক লাগানোর পর ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে, সবশেষে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। ঘরে তৈরি ফেসমাস্কগুলোর মধ্যে মধুর ফেসমাস্কই সেরা বলে জানালেন শারমিন কচি। তবে কোনো উপকরণে অ্যালার্জি থাকলে তা এড়িয়ে চলুন।

১ টেবিল চামচ শসার রস ও ১ চা-চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে ফেসমাস্ক তৈরি করুন। এটি শুষ্ক ত্বককে মসৃণ করতে সাহায্য করে। কাঁচা আলু থেঁতো করে এর রসটা ফেসমাস্ক হিসেবে কাজে লাগানো যায়। দাগ-ছোপ দূর করতে সাহায্য করবে।

* ২ টেবিল চামচ মধুতে ১ চা-চামচ ওটস গুঁড়া ও আধা চা-চামচ টক দই ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। ত্বকে আলতোভাবে মালিশ করুন। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

* ২ চা-চামচ মধু ও ছোট আকারের একটি পাকা কলা (কিংবা বড় আকারের কলার অর্ধেকটা) একসঙ্গে ব্লেন্ড করে ঘন পেস্ট করে নিন। এটি ত্বককে আর্দ্র ও কোমল রাখে।

* ত্বক শুষ্ক প্রকৃতির হলে মধু ও দুধের সরের প্যাক তৈরি করতে পারেন। সাধারণত সব ধরনের ত্বকেই জলপাই তেল ব্যবহার করা যায়। রোজ গোসলের কিছুক্ষণ আগে মুখে ও শরীরে জলপাই তেল দেওয়া ভালো। এ ছাড়া জলপাই তেল ও মধুর একটি হালকা মিশ্রণ বানিয়ে ফেসমাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন (২৫-৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে পারেন)। চাইলে এ মিশ্রণ সারা রাত লাগিয়েও রাখা যায়। এ মিশ্রণ ত্বকের মৃতকোষ তুলে ফেলতে সাহায্য করে।

ভালো মানের টক দইয়ের ফেসমাস্ক ব্যবহার করলে ফেস স্পা করার কোনো প্রয়োজন হবে না বলেই জানালেন শারমিন কচি। এটি ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করে, লোমকূপকে ছোট করে আনতে সাহায্য করে। ১ চা-চামচ টক দই, ১ চা-চামচের চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ লেবুর রস, ১ চা-চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিন। পুরো মুখে সমানভাবে লাগিয়ে নিয়ে অন্তত ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ঠান্ডা পানিতে মুখ পরিষ্কার করে নিন।

শুষ্ক-অনুজ্জ্বল ত্বকের জন্য নারকেল তেল ভালো। কুসুম গরম নারকেল তেল ত্বকে কয়েক মিনিট ধরে আলতো করে মালিশ করুন রোজ। চাইলে সারা রাত রেখে দিতে পারেন। ত্বক এক্সফলিয়েট করতে চিনি ও নারকেল তেলের মিশ্রণ ত্বকে মালিশ করুন ১৫ মিনিট (সপ্তাহে একবার বা ১৫ দিনে একবার)। খুব বেশি চামড়া উঠলে ২ দিন পরপরই এক্সফলিয়েশন করে একটু স্বাভাবিক অবস্থায় এনে নিন ত্বক, এরপর প্রয়োজনমতো।

* ১ ভাগ গ্লিসারিন ও ২ ভাগ গোলাপজল (না পেলে পানি) মিশিয়ে ব্যবহার করলে ফাটা ভাব থাকবে না। রাতে লাগিয়ে নিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
* ২ মগ পানিতে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে তাতে হাত-পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন (আধঘণ্টা, সপ্তাহে ১-২ দিন)।
* কয়েক ফোঁটা লেবুর রসের সঙ্গে টমেটো পেস্ট মিশিয়ে নিয়ে হাতে-পায়ে লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন (সপ্তাহে ১-২ দিন)।

Leave a Reply